ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা এনজিওকর্মীর শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ দুলাভাই গ্রেপ্তার সিরাজদিখানে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ধানের মিলে আটকে মারধরের দাবি গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ১১ অনুমতি না নিয়েই তাঁকে জোর করে চুম্বন শ্রেয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর যা বললেন বেকা নিকোলস অভিবাসী ট্রাকচালকদের সরিয়ে প্রবীণ সেনাদের নিয়োগের প্রস্তাব ট্রাম্পের, আতঙ্কে ভারতীয়রা মুর্শিদাবাদে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত ৩; আতঙ্কে অসুস্থ ২ শিক্ষিকা জিআই পণ্যের পরিচয়ে মোহনপুরের প্রবেশমুখে পানের প্রতীক সম্বলিত সীমানা পিলার উদ্বোধন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার প্রেরন ইয়ামি ৪০ রানী নিয়ে নগ্ন গোসল করতেন এই রাজা নড়াইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা লালপুরে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা রাণীনগরে পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন, ক্ষতিগ্রস্থ অসহায়, গরীব ও দু:স্থ্যদের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান গুরুদাসপুরে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষিত শিমলা পার্ক, এখন প্রয়োজন সকলের দায়িত্বশীল আচরণ আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তানোরে নারীসহ ৬ জনকে পিটিয়ে জখম

ঠাকুরগাঁওয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা সাংবাদিক ও জননেতা সৈয়দ মেরাজুল হোসেনের চিরবিদায়

  • আপলোড সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০৭:০৫:২৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০৭:০৫:২৭ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা সাংবাদিক ও জননেতা সৈয়দ মেরাজুল হোসেনের চিরবিদায় ঠাকুরগাঁওয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা সাংবাদিক ও জননেতা সৈয়দ মেরাজুল হোসেনের চিরবিদায়
একজন মানুষ চলে গেলে অনেক সময় তাঁর শূন্যতা পূরণ হয়। কিন্তু কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি জনপদ, একটি প্রজন্ম, এমনকি একটি ইতিহাসের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। ঠাকুরগাঁওয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান সাংবাদিক, প্রগতিশীল রাজনীতিক ও সমাজচিন্তক অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন ছিলেন তেমনই এক ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও ডেইলি অবজারভারের সাবেক সাংবাদিক, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং জেলার অন্যতম আলোকিত মানুষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন (৮৩) গত শুক্রবার (১৯ জুন) ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই ঠাকুরগাঁওজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলের কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে একটিই নাম, সৈয়দ মেরাজুল হোসেন।

শনিবার দুপুরে তাঁর মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ে আনা হলে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। পরে পাবলিক ক্লাব প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে পাবলিক ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর প্রথম জানাজা। জানাজা শেষে ঠাকুরগাঁও পুরাতন কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সৈয়দ মেরাজুল হোসেন শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সংগঠক, রাজনৈতিক নেতা, সমাজসংস্কারক এবং জনমানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তিনি জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর মেধা ও যোগ্যতা তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারত। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন নিজের জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওকে। নিজের জেলা, নিজের মানুষ এবং তাদের উন্নয়নই ছিল তাঁর আজীবনের ব্রত। সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বাসস, ডেইলি অবজারভার, ডেইলি সানসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সংবাদমাধ্যমে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। উত্তরাঞ্চলে ইংরেজি সংবাদ ও ফিচার লেখার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তাঁর লেখনী ছিল তথ্যসমৃদ্ধ, বিশ্লেষণধর্মী ও দায়িত্বশীল। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সাহসী গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও তিনি থেমে থাকেননি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ছিলেন অগ্রসৈনিক। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সভাপতি হিসেবে তিনি সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা, সাংগঠনিক শুদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।তাঁর মেয়াদকালে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রে এমন সংশোধনী আনা হয়, যাতে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে থাকতে না পারেন। এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত আজও সাংবাদিক সমাজে তাঁর সততা ও নৈতিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সাংবাদিকদের কাছে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও অভিভাবক। তাঁর কাছ থেকে অনেকেই শিখেছেন পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং সত্যের পক্ষে আপসহীন থাকার শিক্ষা।

সৈয়দ মেরাজুল হোসেনের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তাঁর সততা। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবীর মোহ তাঁকে কখনও স্পর্শ করতে পারেনি।

আজকের সময়ে এমন মানুষ ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছেন। তাই তাঁর মৃত্যু শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়; এটি একটি আদর্শ, একটি মূল্যবোধ এবং একটি প্রজন্মের অভিভাবকসুলভ নেতৃত্বের অবসান। তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, দুই কন্যা, এক জামাতা, অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং অগণিত গুণগ্রাহী।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, উদীচীসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা।

শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, “সৈয়দ মেরাজুল হোসেনের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও হারিয়েছে একজন আলোকিত মানুষ, আদর্শবান সাংবাদিক, সৎ রাজনীতিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এক সংগ্রামী ব্যক্তিত্বকে।” সত্যিই, কিছু মানুষের জীবনকাল বছর দিয়ে মাপা যায় না; তাঁদের মাপা হয় কর্মে, আদর্শে এবং মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া অমলিন ছাপ দিয়ে। সৈয়দ মেরাজুল হোসেন ছিলেন তেমনই এক বিরল মানুষ। তাঁর মতো ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্বের অবদান ও কৃতিত্ব কোনো পদক, কোনো সম্মাননা কিংবা কোনো শব্দ দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ, সততা, সংগ্রাম এবং মানবিকতার আলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম পথ দেখাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষিত শিমলা পার্ক, এখন প্রয়োজন সকলের দায়িত্বশীল আচরণ

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষিত শিমলা পার্ক, এখন প্রয়োজন সকলের দায়িত্বশীল আচরণ